শিরোনাম
১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত সময় : নভেম্বর, ৩, ২০২১, ০৫:১৬ অপরাহ্ণ

পাঠক দেখেছেন 415 জন
 

গাজীপুর: শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা পরিশোধে দুই বার চুক্তি ভঙ্গের প্রতিবাদে ঢাকার শ্রম ভবনে লাগাতার অবস্থানের নবমদিনে আজ ৩ নভেম্বর ২০২১, বুধবার, বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনরত গাজীপুরের স্টাইল ক্রাফটকারখানার শ্রমিকরা সংবাদ সম্মেলন থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনা করে।আগামীকাল ৪ নভেম্বর বেলা ১১টায় শ্রম ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আন্দোলরতশ্রমিকরা গত ২৬ অক্টোবর থেকে শ্রম ভবনে পাওনার দাবিতে দিন রাত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। সংবাদ সম্মেলনেরলিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পূর্ণাঙ্গ পাওনা পরিষোধ না করা পর্যন্ত দিন-রাত অবস্থান চলবে।সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কারখানার শ্রমিক আফরিন। এসময় কারখানার শ্রমিক নেতৃবৃন্দের পাশপাশি গার্মেন্টশিল্পের জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্টাইলক্রাফট লিমিটেড এবং ইয়ং ওয়ান লিমিটেড কারখানা দুটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেনানাভাবে বেতন ভাতা এবং ঈদ বোনাস না দিয়ে শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। যার ফলে উক্ত কারখানার ৪২৪৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীআজ এক চূড়ান্ত আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। কারখানার শ্রমিকদের ছয় মাসের এবং কর্মচারীদের নয় মাসের বেতন বকেয়া। ছয়মাস বেতন না পেয়ে ¯স্ব ল্প বেতনের দরিদ্র জীবনযাপনকারী শ্রমিকদের কিভাবে দিন অতিবাহিত হচ্ছে সেটি অবর্ণনীয়। বক্তব্যে আরো বলা হয়, গত জুলাই মাস পর্যন্ত গাজীপুরে কারখানার সম্মুখে দীর্ঘদিন আন্দোলন পরিচালনা করা হয়েছে। সেইআন্দোলনের ফলে কখনো লিখিত ও মৌখিকভাবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মেট্রোপলিটন পুলিশ , শিল্প পুলিশ সহ চুক্তি হয়। মালিক সেই চুক্তি প্রতিবার ভঙ্গ করে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে শ্রমিকরা গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বিজিএমইএরপ্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে। সে ঘেরাও এর ফলে গত ৭ আগস্ট শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিব,মšণ¿ ালয়ের ঊধ্বর্ত ন কর্মকর্তা, বিজিএমইএর সভাপতি এবং শমিক নেতৃবৃন্দসহ ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুসারে,গত ২৫ শে আগস্ট বকেয়া বেতন এবং একটি ঈদ বোনাস পরিশোধ করে কারখানা চালু করার কথা ছিল। এই সর্বোচ্চ পর্যায়ের চুক্তিরবিষয়েও মালিক কোন তোয়াক্কা করে নাই। চুক্তি অনুসারে ২৫ আগস্ট পাওনা পরিশোধ করা এবং কারখানা খুলে দেয়া হয় নাই।লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, শ্রমিকরা ২ সেপ্টেম্বর আবারও বিজিএমইএ কার্যালয় ঘেরাও করে। দিনরাত একটানা দুইদিন ঘেরাওকর্মসূচি পালন করার পর ৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভাতেও শ্রমপ্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গাজীপুরের মেয়র, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, আইজি, ডিজি, বিজিএমইএর সভাপতি, ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী গাজীপুরের মেয়রকে পাওয়ার অব এটর্নি দেয়া হয়।যাতে প্রয়োজনে মালিকের সম্পদ বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা দেয়া যায়। শ্রমিকদেরকে বকেয়া বেতন এবং সার্ভিস বেনিফিটপরিশোধর কথা উল্লেখ থাকে। সেই চুক্তি অনুসারে ১৩ই অক্টোবর এর মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন এবং আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার কথা। এবারেও মালিক এই চুক্তির কোন তোয়াক্কা করে নাই। গাজীপুরের মেয়র এই বিষয়ে বিশেষ কোনো উদ্যোগগ্রহণ করে নাই । এই চুক্তি ভঙ্গ করার ফলে গত ২৬ শে অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রম ভবনের সামনে লাগাতারঅবস্থান আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। নয়দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও পাওনা পরিশোধের কোন উদ্যোগ সরকার কিংবা মালিক পক্ষ গ্রহণ করে নাই।সংবাদ সম্মেলন থেকে বারবার চুক্তি ভঙ্গ করায় মালিক এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। একই সাথে প্রয়োজনেকোম্পানির সকল সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে শ্রমিকদের ছয় মাসের বকেয়া বেতন এবং আইনানুগ সকল পাওনা পরিষোধ করার দাবি জানানো হয়।

Facebook Comments

     

আরও পড়ুন

 

Top