শিরোনাম
১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত সময় : নভেম্বর, ২৩, ২০২১, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

পাঠক দেখেছেন 200 জন
 

দিনাজপুর: দিনাজপুরের হিলি বন্দরের বিভিন্ন আড়তে বস্তা সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চলছে ৪০০ জন শ্রমিকের।  প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বস্তা সেলাই করেন তারা। যে যত হাত চালাতে পারবেন তার উপার্জন তত বেশি।

হিলি স্থলবন্দরে প্রতিদিন ভারত থেকে আমদানি হয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী। বন্দরে রয়েছে প্রতিটি আমদানি কারকদের পণ্য রাখার গুদাম। সেখানে প্রয়োজন হয় অনেক বস্তার। এছাড়া বন্দরের বাজারগুলোতে থাকা ধানের আড়তেও সরবরাহ করা হয় হাতে সেলাই এসব বস্তা।

সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে বন্দরের প্রায় ১৬ টি বস্তার আড়ত ঘুরে দেখা যায়, সেখানে আপন মনে বসে ছেঁড়াফাটা ও পুরানো বস্তা সেলাই করছেন শ্রমিকরা। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে তাদের কর্ম ব্যস্ততা। বেশি ছেঁড়াফাটা বস্তা সেলাইয়ে মজুরি ১০টাকা, অল্প ছেঁড়াফাটা বস্তা সেলাইয়ে দেড় থেকে ৬টাকা মজুরি নেন তারা। সারাদিন কাজ শেষে এসব বস্তা সেলাইয়ে শ্রমিকরা পান ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে যাদের হাত কম চলে তারা দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা উপার্জন করেন। সেলাই করা এসব বস্তা হিলি বন্দরের বিভিন্ন ধানের আড়তসহ আমদানি-রপ্তানি কারকদের নিকট সরবরাহ করেন বস্তা ব্যবসায়ীরা।

বস্তা শ্রমিক সুজন আলী বলেন, ‘আমি প্রায় ১৫ বছর ধরে বস্তা সেলেইয়ের কাজ করছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করি, তাতে আমার সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা উপার্জন হয়। সংসারে ছেলে-মেয়ে ও বাবা-মাকে নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক ভালো আছি।’

সাইম হোসেন নামে অপর এক শ্রমিক বলেন, ‘আমি আমার নানার বাড়িতে থাকি। সারাদিন বস্তা সেলাই করে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কামাই করি। তা দিয়ে নানা-নানীকে দেখি এবং বাবা-মাকেও টাকা পাঠাই।’

নারী শ্রমিক রানী বেগম বলেন, বাড়িতে ৪ ছেলে-মেয়ে আছে। এখান থেকে যা উপার্জন করি তা দিয়ে সংসার চলে, তবে সব জিনিসের যে দাম তাতে করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করানো খুব কঠিন। জিনিসপত্রের দাম কম হলে কোনো সমস্যা হতো না।’

বস্তা ব্যবসায়ী আব্দুল রহিম মিথুন বলেন, ‘আমার আড়তে ১০ জন শ্রমিক বস্তা সেলাইয়ের কাজ করে। তাদের সারাদিনের কাজের টাকা প্রতিদিন দিয়ে দেই।’

হিলি বাজারে বস্তা আড়তদার এনামুল হক সরকার বলেন, ‘বন্দরে প্রায় ৪০০ জনের বেশি বস্তা শ্রমিক আছে। আমার আড়তে ১৯ জন শ্রমিক কাজ করে। তারা সকাল সাড়ে ৮ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বস্তা সেলাইয়ের কাজ করে। শ্রমিকদের প্রায়দিন ৫০০ টাকার উপরে কাজের মজুরি দিতে হয়। মূলত আমরা তাদের সেলাই করা বস্তাগুলো ধানের আড়ত এবং বন্দরের খৈল ব্যবসায়ীদের দিয়ে থাকি।’

Facebook Comments

     

আরও পড়ুন

 

Top