শিরোনাম
১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত সময় : নভেম্বর, ৭, ২০২১, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

পাঠক দেখেছেন 493 জন
 

পৌনঃপুনিক
সুলেখা আক্তার শান্তা

দুকূলে এক মা ছাড়া আর কেউ নাই। আপন বলতে মায়ের আছে আমি আর আমার আছে মা। আমার বাঁচ মরার সবকিছু ঘিরে আছে মা। কাজে যাবার আগে মনোরা মায়ের সবকিছু ঠিকঠাক করে দিয়ে যায়। মা ভাত রান্না আছে তুমি সময় মত খাইয়া নিও।
আজিজা আস্তে আস্তে বলে, আচ্ছা মা। তুই এখন কাজে যা। আমার কথা ভাবিস না।
মালিতা ও আসিব স্বামী-স্ত্রী দু’জনাই চাকরি করে। তাদের ছেলে তাহিনকে দেখাশোনা করে মনোরা। কাজের লোকদের এখন খালা বলা হয় বুয়া বলা সেকেলে হয়ে গেছে। মালিতা মনোরাকে বলে, খালা তোমার কাছে ছেলেকে রেখে অনেক নিশ্চিত থাকতে পারি। তোমাকে আমরা খুব আপন জানি।
তোমরা আমাকে আপন জানো এতো আমার বড় পাওয়া। আমি তোমাদের কই আর আপন জানলাম। মাসে মাসে তোমাদের কাছ থেকে টাকা নেই।
খালা এ তুমি কি বলো? তুমি পরিশ্রম করে টাকা নিচ্ছো। এমনিতো তোমাকে আমরা টাকা দিচ্ছি না। আসিব মালিতাকে তাড়া দেয়, চলো অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দু’জন ছেলে তাহিনকে আদর দিয়ে অফিসে যায়। তাহিনকে নিয়ে বাসায় থাকে মনোরা। মালিতা অফিস থেকে ফিরে বিষন্ন মনে মনোরাকে বলে, খালা আমাদের চাকরির পোস্টিং হয়েছে ঢাকার বাহিরে। আমাদের ঢাকার বাহিরে চলে যেতে হবে। কথাটা শুনে মনোরার বুক কেঁপে উঠে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, দীর্ঘদিন ধরে তোমাদের বাসায় কাজ করি। মনটা মায়ার বাঁধনে আটকা পড়ছে।
মালিতা অবাক দৃষ্টিতে তাকায় মনোরার দিকে, বলে, খালা তোমার জন্য মায়া লাগে।
মনোরা ভাবতে থাকে হায়রে, অসহায় মানুষের অনেক কষ্টের তৈরি আশ্রয় হঠাৎ করে নিরাশ্রয় পরিণত হয়! পেটের তাগিদে নতুন কাজ খুঁজতে হবে। এক পেটের চিন্তা হলে কথা ছিল না। অসহায় মাকে নিয়ে দেখি কি করা যায়। মনোরা দু’চোখে অশ্রু।
খালা কি করবো বলো চাকরির দায়।
মনোরা মন খারাপ করে বাসায় আসে। আজিজা মেয়েকে জিজ্ঞাস করে, কিরে মা কি হয়েছে?
কিছু না মা।
শরীর খারাপ?
না।

মনোরা একটা হোটেলে কাজ জোগাড় করে নেয়। কাজ-কর্মে বরাবরই সে মনোযোগী। মনোরার কাজ দেখে হোটেলের মালিক হানিফ মনোরার উপর খুব সন্তুষ্ট। হোটেলের বাড়তি খাবার থাকলে কাজ শেষে মনোরাকে দিয়ে দেয়। তাতে হিংসায় জ্বলে উঠে অন্য কর্মচারীরা। মনোরার ধুইয়ে রাখা থালাবাটি সব নষ্ট করে দেয়। আবার তাকে ধুইতে হয়। তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। মনোরা তাদের এমন ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। তোমরা আমার সঙ্গে এমন করছ কেন? আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করেছি? কর্মচারীদের বড় ধরনের অসততা মনোরার চোখে পড়ে। কাস্টমারদের খাবার বিল পুরোটা ক্যাশে জমা না দিয়ে কিছু টাকা তারা নিজেরা পকেটস্থ করে। হোটেল মালিক গোপনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেখে তার খুব খারাপ লাগে। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে কর্মচারীদের মধ্যে শফিক মনোরাকে কিছু টাকা দেয়। মনোরা অনৈতিক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। আমি এই টাকা নিতে পারবোনা। মালিকের বিশ্বাস ভাঙতে পারবো না!
শফিক বলে, ইস আইছে আমার সৎ মানুষ। বুড়িকে নিয়ে খুবই মুশকিলে পড়লাম! কখন না জানি মালিককে বলে দেয়! টাকা আত্মসাতের কাজ শফিক প্রতিদিনেই করতে থাকে। মনোরা বিবেকের তাড়নায় সইতে না পেরে ভাবে মালিককে জানাবে। কিন্তু তার আগেই শফিক মনোরাকে এখান থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করে। মালিকের কাছে মনোরার নামে বিভিন্ন অভিযোগ করে। জিনিস পত্র ভেঙ্গে মনোরার নাম দেয়। তাতে কাজ না হলে নারীর প্রতি চিরাচরিত অপবাদের আশ্রয় নেয়া হয়। মনোরার নামে মিথ্যা বদনাম দেয়। শফিক মালিককে বলে মনোরার চরিত্র ভাল না! কাস্টমারদের দিকে অশালীন ভাবে তাকায়। তাদের কারো কারো সাথে ঢলাঢলি করে। এভাবে চললে অন্যান্য কর্মচারী এখানে কাজ করতে পারবে না। মনোরার নামে একের পর এক নালিশ দিতে থাকে শফিক। হানিফ এতে চিন্তিত হয়। সে ভেবে মনোরাকে কাজে রাখলে তার হোটেলের বদনাম হবে। হানিফ এক সময় মনোরাকে বলত বাধ্য হয়, শোন তোমাকে আর কাজে রাখতে পারছিনা। দিনদিন তোমার নামে নালিশ শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল। মনোরা কান্নাকাটি করে। হোটেল মালিক বলে, কি করবো বলো? আমি তোমার জন্য তো হোটেলের মানসম্মান ডুবাইতে পারিনা।
ঠিক আছে। আমার নামে যে লাঞ্ছনা-বঞ্চনা দিয়েছে দেক। মনোরাকে মিথ্যা দুর্নাম নিয়ে চলে আসতে হয়। আপনার কাছের মানুষগুলাকে আপনি একটু চিনে নিয়েন। মনোরা আশ্চর্য হয়ে ভাবে তার জীবনে আশ্রয় গড়ে তোলার চেষ্টা বারবার কেন ব্যর্থ হয়!
মনোরা মন শক্ত করার চেষ্টা করে। বাসায় এসে ভাবে আমি ভেঙ্গে পড়বো না। কপালে যে দুর্গতি লেখা আছে তাই হবে। আল্লাহ তুমি আমার উপর সহায় হও। সে সিদ্ধান্ত নেয় আর অন্যের অধীনে কাজ করবে না। নিজেই নিজের স্বাবলম্বন তৈরি করবে। তার কাছে যেটুকু টাকা আছে তাই দিয়ে একটা কিছু করার পরিকল্পনা করে। ফুটপাথে কাপড় বিক্রির ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেয়। সে কাজেও অনেক প্রতিবন্ধকতা। রাস্তার ফুটপাতের আবার মালিকানা আছে। মালিকদের নাম লাইনম্যান। তাদের কাছ থেকে দৈনিক ভাড়ায় ফুটপাতে বসার অনুমতি নিতে হয়। অনেক ঝক্কি ঝামেলার পর মনোরা লাইনম্যান সাদিকের কাছ থেকে ফুটপাতে বসার অনুমতি পায়। মনোরা বলে সাদিককে, বাবা আমার কিছু করতে হবে?
না। তুমি জায়গা দেখে বসো। লোকজনের আনাগোনা বেশি এমন জায়গা তাঁর ভাগ্যে জোটে না। মন্দের ভালো একটি জায়গা পরিস্কার করে সেখানে সে ব্যবসার মালামাল সাজিয়ে বসে। বেচাকেনা টুকটাক হয়। শুরু হয় জীবন সংগ্রামের আরএক পর্যায়। দৈনিক ফুটপাতের দোকানদারদের কাছ থেকে যে টাকা তুলে তার নাম ঘেটু। মনোরার বেচাকেনা যাই হোক দৈনিকের টাকা সে নিয়মিত দৈনিক দেয়। লাইনম্যানের চামচা ঘেটু নিষ্টুর প্রকৃতির লোক। মনে হয় নামের সঙ্গে তার স্বভাবের মিল আছে। কারো জন্য তার দয়া মায়া নাই। কারো বেচা বিক্রি হোক বা না হোক দিনের টাকা তাকে দিনেই দিতে হবে। অসহায়দের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়। বাড়তি টাকা না দিলে সে তখন তাকে সেখান থেকে তুলে দেয়। নিরীহ মনোরাকে সে বলে, তোমার দুশো টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে।
কেন আমি টাকা বাড়িয়ে দিবো? সবাই যা দেয় আমিও তা দিবো।
টাকা বাড়িয়ে না দিলে তোমাকে এখানে আর বসতে দেওয়া হবে না!
বাবা আমি সবেমাত্র ব্যবসা শুরু করেছি। এখন আমি কি করে টাকা বাড়িয়ে দিব।
আমি এত কথা শুনতে চাই না। টাকা না দিতে পাললে উঠে যাও।
দুনিয়া আমার এক মা ছাড়া কেউ নাই। মা খুবই অসুস্থ। আমার চালাইতে হয়। তুমি আমাকে একটু দয়া করো বাবা।
এইসব কথায় আমার মন নরম হবেনা। আমি যা বলছি তা শোন না হয় পথ দেখো।
কেন আমি তোমাকে বাড়তি টাকা দিবো? আমি সাদিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি তার সঙ্গে কথা বলব।
তুমি বড় ভেজাইল্যা মহিলা। তুমি আমার সাথে টক্কর দিয়া পারবা?
আমি কোন শক্তিবান মানুষ না যে তোমার সঙ্গে টক্কর দিবো। আমি তোমার চেয়ে বয়সে বড় হয়েও হাত জোড় করে মিনতি করছি। তুমি আমাকে এখানে বসার ব্যাপারে না বলো না। ঘেটু ঝাড়ি মেরে চলে যায়। বদির নামে একজন এসে মনোরার মাল সরিয়ে নিজের শুটকির দোকান নিয়ে বসে। মনোরা চিৎকার করে ওঠে। হায় হায় তুমি একি করো গায়ের জোরে! আমি বসবো কই?
আমি কি জানি? আমাকে ঘেটু ভাই এখানে বসতে বলছে। আর তোমার আগে আমি এখানে অনেকদিন দোকান করছি।
আমি তো তোমাকে এখানে বসতে দেখি নাই!
দেখো নাই এখন দেখো।
আমি সম্বলহীন অসহায় মানুষ। আমার এক আছে আল্লাহ। তোমারা আমার সাথে অন্যায় করলে আল্লা সহ্য করবে না!
বদির বলে, শোন এই রাস্তা আমি ঠিক করছি। এখানে জোর আমার।
এই রাস্তা তুমি ঠিক করেছ? রাস্তা ঠিক করেছে সরকার। সরকারি রাস্তা তোমাদের নিজের হয়ে গেলো?
তোমাকে এখানে বসতে দেওয়া যাবে না। এ হচ্ছে শেষ কথা। এখন তাড়াতাড়ি এখান থেকে কেটে পরো। মনোরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। দৌঁড়ে যায় সাদিকের কাছে, জানতে পারে সাদিক ঢাকার বাহিরে। ঘেটু বলে, কি বলেছিলাম? আমাকে টাকা বাড়িয়ে দাও। টাকা বাড়িয়ে দিলেনা এবার বোঝো ঠেলা। মনোরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বাড়িওয়ালা আতিককে ধরে। তাকে তার দুর্দশার কথা খুলে বলে।
আতিক বলে, তোমাকে ঐখানে বসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
বাবা আমি কুলহারা মানুষ। আমার জন্য এই উপকার করলে আল্লাহর কাছে তোমার জন্য দোয়া করব।
তোমাকে কিছু করতে হবে না আমার জন্য। এখানে তুমি বসবা কেউ কিছু বললে আমাকে বলবা। আতিককে দেখে ঘেটু বলে, কি দরকার ছিল আতিক ভাইকে ডাকার। তোমাকে তো যেকোনো জায়গায় বসতে বলছি। শুধু শুধু ঝামেলা পাকাও কেন?
আমার বসার জন্য একটু জায়গা দরকার সেটুকু দিলেই হবে।
আতিক বলে দেয় ঘেটুকে, চাচির কাছ থেকে টাকা নিবি না। আতিক চলে যেতেই গেটু বলে চাচি টাকা দাও।
ঝামেলার কারণে বেচাকেনা করতে পারিনাই। বাড়িওয়ালা আতিক তো বলে দিল আমার কাছ থেকে টাকা না নিতে।
বাড়িয়ালা বললেই হলো। লাইনের খরচ আছে না। পুলিশকে টাকা দিতে হয়। তারপর আরো অনেক খরচ আছে। বেচাকেনা থাকুক না থাকুক খরচ তো বসে থাকবে না। টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে না পারলে আর এখানে আইসো না। মনোরা কথা না বাড়িয়ে গাঁঠ থেকে কষ্টার্জিত টাকা বের করে দেয়।
মনোরা মা আজিজা ভীষণ অসুস্থ। খাওয়া-দাওয়া করতে পারেনা। মায়ের দেখাশোনার জন্য দু’দিন দোকান বসতে পারেনি। মা একটু সুস্থ হলে দোকানে বসতে গিয়ে দেখে তার জায়গায় অন্য লোক বসে আছে। সে চেঁচামেচি করে জায়গাটা উদ্ধার করে সেখানে বসে।
ঘেটু এসে মনোরাকে বসতে দেখে ক্ষেপে যায়। সে মনোরার দোকানের মাল মাটিতে ফেলে পা দিয়ে মুচড়িয়ে কাদামাটি জড়িয়ে দেয়। বলে, তুমি ভালো কথার মানুষ না। কঠিন শাস্তি না দিলে তুমি কথা শুনবে না। এখানে বসতে পারবে না চলে যাও।
নিজের চূড়ান্ত দুর্দশা দেখে মনোরার দু’চোখে অশ্রু ঝরতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে বলে, তুই এইডা কি করলি? আমার মাথায় কেন বাড়ি দিলি। আমার এতগুলি টাকার কাপড় নষ্ট করে দিলি! এখন আমার মারে নিয়া কিভাবে চলবো। আল্লার কাছে আমি বিচার দিলাম। মনোরার কান্না আর বিলাপ শুনে রাস্তার লোক জড়ো হলো। সবাই কথা শোনে। কেউ প্রতিবাদ কিংবা প্রতিকারের কথা বলে না। ঘেটু প্রতিকারের সেই চিরাচরিত পথ অনুসরণ করে। বলে, ওনার অভ্যাস খারাপ সবার সঙ্গেই চেঁচামেচি করে। চরিত্রও ভালনা। আপনারাই বলেন এরকম করলে ওনারে এখানে বসতে দেওয়া যায়?
মনোরা ক্ষুব্ধ কন্ঠে প্রতিবাদ করে, আমার চরিত্র ভালনা। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টা আল্লাহ সহ্য করবে না। গজব পড়বে তোর উপর। মনোরার আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। কি সর্বনাশ হল আমার! এই ক্ষতি আমি কিভাবে সামলা দিম। আমার এতো গুগি টাকার কাপড় নষ্ট করে দিলি। ঘেটুর দলের লোকগুলো এক একটা পিশাচ। মনোরার কান্না দেখে তারা হাসে। তাড়াতাড়ি যাও এখান থেকে, নাগেলে তোমার দোকানে আগুন দেবো। মনোরা চোখ মুছতে মুছতে বসায় চলে আসে।
আজিজা বলে, মা তুই কাঁদিস কেন?
না মা কাঁদি না। ভাবে জীবনের ব্যর্থতার কথা বলে কি হবে!
আজিজার শরীরটা আজ বেশ খারাপ। মা ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। আমারে যদি একটু আপেল খাওয়াতে পারতি মনটায় শান্তি পাইতাম। মনোরা করুন চোখে মায়ের দিকে তাকায়। হাতে টাকা নাই। সেখানে মায়রে ঔষধ আপেল কি করে জোগাড় করবো। টাকা যা ছিলো সব ব্যবসায় খাটাইছি। এখন তো হাত একেবারে শূন্য। আজিজা মেয়েকে প্রশ্ন করে, কাজে যাস না কেন? ঔষধ দিস না কেন? আমারে খাওন দিস না! আমার ক্ষুধা লাগছে।
মায়ের কথায় মনোরা দিশেহারা হয়ে পড়লেও আত্মসম্মানবোধ তাকে তাড়িত করে। মরে যাবো তাও কারো কাছে হাত পাতবোনা!
আজিজা ব্যাপারটা অনুমান করতে পেরে বলে, মা তুই বড় শখ করে আমারে এই স্বর্ণের চেইন দিছিলি। চেইন দিয়া কি করুম। যদি জীবনেই না বাঁচে। এই চেইন বিক্রি করে খাবার কিনে আন। ক্ষুধায় আজিজার কন্ঠ ক্ষীণ হয়ে আসে। মনোরা এই কঠিন দুঃসময়ে চেইন পেয়ে একটু ভরসা পায়। যাক একেবারে অনাহারে থাকতে হবে না। মায়ের মুখে কিছু হলেও খাবার দেওয়া যাবে। চেইন বিক্রি করে মনোরা চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে। সাথে ওষুধ আপেলও কিনে।
এদিকে আজিজার শ্বাসকষ্ট দ্রুত বাড়তে থাকে। গত কয়েকদিনে অনিয়মিত ঔষধ ও খাবার গ্রহনে শরীর এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মৃত্যু এসে সামনে দাঁড়ায়। পৃথিবীর সমস্ত প্রয়োজন থেকে মুক্তি লাভ করে সে পরপারে পাড়ি জমায়।
মনোরা বলে, আমার এমন অস্থির লাগছে কেন?
মনোরা বাড়ি ফিরছে। তার মনে হলো, পথ যেন আর শেষ হয় না। মনের ভেতর অস্থিরতাও বেড়ে যায়। মাকে ডাকতে ডাকতে ঘরে ঢোকে। মা তোমার জন্য আপেল আর ঔষধ এনেছি আরো কত জিনিস আনছি। হঠাৎ লক্ষ্য করে মায়ের চোখ দুটো চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। বুকফাটা আর্তনাদ করে ওঠে। মা তুমি আমারে ছাইড়া চইলা গেলা! মা তোমার এসব জিনিস কে খাবে। পাশেই ছিলো পাটা পুতা। পুতা নিয়ে নিজের মাথায় আঘাতের পর আঘাত করতে থাকে। আচমকা আঘাতে অতিরক্ত রক্তক্ষরণে জ্ঞান হারায় মনোরা। কিছুক্ষণ পর ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। মৃত্যুর সময় মোনোরার হয়তো মনে হয়েছিল প্রকৃতি কেন নারীর চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের অবারিত সুযোগ দিয়ে মানব সভ্যতা তৈরি করেছিল।
মনোয়ার দোকান দেখতে না পেয়ে আতিক আসে মনোরার খবর নিতে। মনোরার বাসার ঢুকে দেখে মনোরা আর তাঁর মা দু’জেনেই মৃত। আতিক দু’জনার দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে। মাটি দেওয়া শেষ হয়। আতিক ঘেটুকে বলে, তোর সন্ত্রাসী আচরণের কারণে দুটা মানুষকে না খেয়ে মৃত্যু বরণ করতে হলো। তারপরও ঘেটুদের মনে অনুশোচনা জাগে না। প্রতিকুলতায় জীবন সংগ্রামে পরাজিতরা সবার অলক্ষ্যে হারিয়ে যায়।

Facebook Comments

     

আরও পড়ুন

 

Top